এখন সামনের দিকে তাকাতে হবে

Updated: Dec 14, 2020

হিরো আইএসএল-এ এসসি ইস্টবেঙ্গল নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ালো। গত বৃহস্পতিবার গোয়ার তিলক ময়দানে অনুষ্ঠিত জামশেদপুর এফসি-র বিপক্ষে হওয়া সেই ম্যাচ তারা হারেনি। একটানা তিনটে ম্যাচ হেরে লাল-হলুদ বাহিনীর পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে খানিকটা মুক্তি পাওয়া গেছে, কিন্তু এখনো অনেকটা পথ চলা বাকি। সবার আগে জিততে হবে, আর জিততে গেলে গোল চাই। এখনো পর্যন্ত এসসি ইস্টবেঙ্গল একটিও গোল করতে পারেনি। ফুটবলে গোলই আসল কথা, একটি দলের সাফল্যের মাপকাঠি। একটি দল সারাক্ষণ ভালো না খেলেও যখন গোল করে ফিরে আসে, তখন তাদেরকে নিয়েই মাতামাতি হয়। যে গোল করে সেই নায়ক হয়—এটাই খেলার চিরাচরিত নিয়ম। এসসি ইস্টবেঙ্গল গোল পাচ্ছে না কেন, দলে ঘাটতি কোথায়— এগুলো নিশ্চই কোচ রবি ফাওলার লক্ষ্য করেছেন, এবং গত ম্যাচ থেকে সেগুলি মেরামত করার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন।

জামশেদপুর এফসি-র সাথে ০-০ ড্র হওয়া ম্যাচে এসসি ইস্টবেঙ্গলের মহম্মদ ইরশাদ হয়েছিলেন ম্যাচের সেরা। সৌজন্যে: হিরো আইএসএল

এসসি ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণভাগে যার ওপর ভরসা করা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি, সেই অ্যান্টনি পিলকিংটন বিদেশ থেকে এসে এখানে মানিয়ে নিতে একটু সময় নিচ্ছেন, কিন্তু তিঁনিও আস্তে আস্তে ছন্দে ফিরছেন। এটা মনে রাখতে হবে যে অতীতে ভারতে খেলে যাওয়া কিছু বিখ্যাত বিদেশী, যেমন মজিদ বাসকার বা ব্যারেটোও এখানে প্রথমদিকে এসে চটজলদি মানিয়ে নিতে পারেননি। কিন্তু পরবর্তীকালে তাঁরা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন।

দলগঠনের ক্ষেত্রে কোথায় ভুলত্রুটি হয়েছে তা ভেবে এখন লাভ নেই। এখন সামনের দিকে তাকাতে হবে। জামশেদপুর ম্যাচের প্রিভিউতে বলা হয়েছিল যে আমরা কোনো অজুহাত দাঁড় করাতে চাই না। না, এটাও কোন অজুহাত নয়। আবার একই সময় এটাও মনে রাখতে হবে যে, দল এই মুহূর্তে চোট-আঘাতে জর্জরিত। অধিনায়ক ড্যানি ফক্স এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। অ্যারন আমাদি-হলোওয়ে ও লোকেন মিতেই-রাও এখনো সম্পূর্ণ ম্যাচ ফিট নন। এত সমস্যা সত্বেও লাল-হলুদ বাহিনী আগের ম্যাচে যে একাগ্রতা ও প্রত্যয়ের পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যি প্রশংসাযোগ্য। শুধু একটা গোল আসার অপেক্ষা। একটা গোলই ম্যাচের রং বদলে দিতে পারে।

এই মরশুমে হিরো আইএসএল-এ যে দলগুলো খেলছে তাদের মধ্যে হায়দরাবাদ এফসি অন্যতম শক্তিশালী দল। এই দলটি তারুণ্যে ভরপুর। এটিকে-মোহনবাগানের মত প্রবল পরাক্রমশালী দলকেও নিজেদের শেষ ম্যাচে তারা রুখে দিয়েছে। সুতরাং এসসি ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে যে তারা পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

তবু লাল-হলুদ বাহিনীকে এগিয়ে যেতে হবে। এসসি ইস্টবেঙ্গলের মূলমন্ত্র হলো যে লড়াই, সেই লড়াইকে আরো জোরদার করতে হবে!

আগের ম্যাচে ভারতীয় ফুটবলেরদের মধ্যে রফিক ও ইরশাদ সদস্য-সমর্থকদের ভরসা দিতে পেরেছিলেন। আগামী ম্যাচে এই দু'জনকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। সঙ্গে দলের বাকি ফুটবলারদেরও নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে। চতুর্থ ম্যাচে এসিসি ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারদের মনোবল যে ভাঙ্গেনি তার মস্ত বড় প্রমাণ হলো, ৭০ মিনিটের কাছাকাছি সময় ধরে দশজনে খেলেও (২৫ মিনিটের মাথায় লিংডো-র লাল কার্ড দেখে মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর) তারা কোনো গোল হজম করেনি। এই লড়াইটাকেই আগামী দিনেও বজায় রাখতে হবে।




537 views0 comments

Recent Posts

See All