প্রতিযোগিতার সেরা গোল : কৃষ্ণেন্দু রায়

গত বুধবার দশ'জনে খেলেও এসসি ইস্টবেঙ্গল গোয়ার মাটিতে এফসি গোয়ার বিপক্ষে ১-১ করে অমীমাংসিত রেখে মাঠ ছেড়েছিল। হয়তো ৩ পয়েন্টই পেয়ে যেত যদি না রেফারি ড্যানি ফক্সকে লাল কার্ড দেখাতেন। এ ব্যাপারে প্রাক্তনরা মনে করছেন ফক্সকে লাল কার্ড দেখানো ঠিক হয়নি। তবে প্রত্যেকেই ব্রাইটের গোলটি দেখে উচ্ছ্বসিত। ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলার কৃষ্ণেন্দু রায়ের মতে এখনও পর্যন্ত সেটি হিরো আইএসএল-এর এই মরসুমের সেরা গোল।

ছবি সৌজন্যে: ব্রাইট (হিরো আইএসএল), ইনসেটে কৃষ্ণেন্দু (দ্য টেলিগ্রাফ)

যেভাবে চার'জনকে কাটিয়ে গোলটি করেছিলেন ব্রাইট, তা এক কথায় বিশ্বমানের। কৃষ্ণেন্দুর ধারণা, 'শুধুমাত্র বুধবারের ম্যাচই নয়, গোটা প্রতিযোগিতার সেরা গোল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে সেই গোলটি। ব্রাইট এখন দলে অপরিহার্য।' এসসি ইস্টবেঙ্গল প্রথমদিকে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি কারণ দলগঠনের জন্য বিশেষ সময় পাওয়া যায়নি। লাল-হলুদ বাহিনী যতক্ষণে হিরো আইএসএল-এ খেলার অনুমোদন পেল, ততক্ষণে বাকি দলগুলো বেশিরভাগ স্বদেশী ফুটবলারদের তুলে নিয়েছিল। এর সাথে এটাও মনে রাখতে হবে যে, মাত্র দু'সপ্তাহ অনুশীলন করেই লাল-হলুদ বাহিনী খেলতে নেমেছিল হিরো আইএসএল-এ তাদের প্রথম ম্যাচ, এটিকে-মোহনবাগানের বিরুদ্ধে। এখন যা পরিস্থিতি, খেলতে খেলতেই সেট হতে হবে। যদিও এখানে সমস্যা হল, সাত দিনের মধ্যে তিনটে ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। তবুও কৃষ্ণেন্দু আশাবাদী যে, দল ঠিক দাঁড়িয়ে যাবে। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বললেন এই প্রাক্তন লড়াকু ডিফেন্ডার। তা হল, হিরো আইএসএল একটি ম্যারাথন লিগ। এই ধরণের প্রতিযোগিতায় অঙ্ক কষে প্রতিদিন খেলা যায় না। উদাহরণস্বরূপ তিঁনি বললেন, '১৯৮৮ সালে দল হিসেবে মোহনবাগান বেশ শক্তিশালী ছিল। ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠে বিকাশ পাঁজি বাদে কোনো পজিটিভ মিডফিল্ডার ছিল না। রক্ষণ থেকে তাঁকে ও অমিত ভদ্রকে তুলে এনে কোচ পিকে ব্যানার্জি মাঝমাঠে ব্যবহার করেছিলেন এবং কোচ পিকের ছক সেই বিশেষ ম্যাচে সফল হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়নি। সেই মোহনবাগান ম্যাচ ছিল একটি নকআউট ম্যাচের মতো, কিন্তু লিগ হল একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতা।' ঠিক এরকম ভাবেই ১৯৯০ সালে অঙ্ক কষে কোচ পিকে আবার বাজিমাত করেছিলেন, কিন্তু এবার মোহনবাগানের হয়ে ইস্টবেঙ্গলের বিপক্ষে। কিন্তু পরবর্তীতে দল হিসেবে ইস্টবেঙ্গল অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। এক কথায় কোচ রবি ফাওলার সর্ম্পকে কোনো বিরূপ মন্তব্য করতে রাজি নন কৃষ্ণেন্দু।