কলকাতা লিগে যাত্রা শুরু ১৯২১ থেকে, দ্বিতীয় ডিভিশনে চ্যাম্পিয়ন ১৯২৪ সালে

Updated: Jan 11

সমাজের আরও বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য সম্ভ্রান্তশালী ব্যক্তি তখন এগিয়ে এলেন লাল-হলুদ ছাতার তলায় । তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বনোয়ারীলাল রায়। তিঁনি ছিলেন ঢাকা জেলার ভাগ্যকুলের বিখ্যাত কুন্ডু বংশের উত্তরসূরি । সেই সময় লক্ষাধিক টাকা ক্লাব পরিচালনার জন্য ব্যয় করেছিলেন । সন্তোষের মহারাজা ছিলেন মন্মথনাথ রায় চৌধুরী। পরবর্তীতে তাঁর নামে সন্তোষ ট্রফি প্রতিযোগিতা চালু হয় । তাঁর মতো আরো অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তি সামিল হয়েছিলেন লাল-হলুদ দলে । প্রসঙ্গত জিতু মুখার্জি ও জ্যোতিষ চন্দ্র গুহ প্রথমে খেলোয়াড় হিসেবেই ক্লাবে যোগদান করেন । পরবর্তীতে তাঁরা দুজনেই একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন । জ্যোতিষ চন্দ্র গুহ প্রথমে ক্লাবের সহ-সচিব এবং পরবর্তীতে একটানা ১০ বছর সচিব পদের দায়িত্বে ছিলেন । বলতে দ্বিধা নেই, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের যে সুনাম ও সাফল্য, বিদেশ সফর—সবই সেই সময়ে জ্যোতিষ চন্দ্র গুহ সচিব থাকাকালীন লাভ হয়েছিল। মানতেই হবে, সুরেশ চন্দ্র চৌধুরীর একনিষ্ঠতা এবং ক্লাবের অস্তিত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে যেমন বিশাল অবদান ছিল তড়িৎ ভূষণ রায়ের, পরবর্তীকালে সাফল্যের উচ্চশিখরে তুলে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা ছিল ক্লাবের সর্বকালের সেরা সচিব জ্যোতিষ চন্দ্র গুহর ।


১৯২১ সালে কলকাতা লিগের দ্বিতীয় ডিভিশনে খেলার সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল । তাজহাট ক্লাব লিগ থেকে নাম তুলে নেওয়ার ফলে সুযোগ এসে যায় ইস্টবেঙ্গলের সামনে । আইএফএ – তে নাম নথিভুক্ত করার ব্যাপারেও বিশেষ ভূমিকা ছিল তড়িৎ ভূষণ রায়ের । দ্বিতীয় ডিভিশনে সুযোগ পেয়ে প্রথম বছরেই লিগে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ইস্টবেঙ্গল । সে বছর সাতটি জুনিয়র ট্রফিতেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লাল-হলুদ বাহিনী ।

প্রথম বছর দলে খেলেছিলেন:–


গোল – নগেন কালী ও মনি তালুকদার

ব্যাক – ভোলা সেন, ভানু দত্তরায় ও প্রফুল্ল চ্যাটার্জি

হাফ ব্যাক – প্রফুল্ল মিত্র, ননী গোঁসাই, সুরেন ঠাকুর, বিজয়হরি সেন ও শৈলেন বসু

ফরোয়ার্ড – দেবেন পাল, নসা সেন (অধিনায়ক), ধীরা মিত্র, প্রশান্ত বর্ধন, নেপাল চক্রবর্তী, জিতু মুখার্জি প্রমুখ

১৯২১ সালে ইস্টবেঙ্গলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের একটি বিরল ছবি

প্রসঙ্গত এঁরা সবাই প্রথম ডিভিশনের বিভিন্ন দলে খেলতেন । কিন্তু তাঁরা সবাই স্বতস্ফুর্তভাবে লাল-হলুদ জার্সি গায়ে খেলার জন্য যোগ দিয়েছিলেন । লিগে সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর.জি.এ টিম । আইএফএ শিল্ডের খেলায় সেই দলকে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই খেলা দেখতে প্রচুর দর্শক সমাগম হয়েছিল । দর্শকরা আর.জি.এ টিম বড় ব্যবধানে জিতবে বলে ধরেই নিয়েছিলেন । কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের দাপট দেখে তাজ্জব বনেছিলেন তারা । ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে গোল করেছিলেন প্রশান্ত বর্ধন এবং আশু দত্ত দুটি । দলে নবাগত দুই ফুটবলার সেন্টার ফরোয়ার্ড মোনা দত্ত এবং ইনসাইড ফরোয়ার্ড শিলচর নিবাসী আশু দত্ত বিশেষভাবে নজর কেড়েছিলেন । পরদিন দ্য স্টেটম্যান, দ্য ইংলিশম্যান এবং দ্য ডেইলি নিউজ – প্রথম শ্রেণীর সবকটি ইংরেজি দৈনিক ইস্টবেঙ্গলের খেলার ভূয়সী প্রশংসা করেছিল ।


১৯২৪ সালে দ্বিতীয় ডিভিশন লিগে ক্যমেরন্স 'বি' রেজিমেন্টাল টিমের সঙ্গে যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুত্রে প্রথম ডিভিশনে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ইস্টবেঙ্গল। ১০ দলের মধ্যে রিটার্ন লিগ পদ্ধতিতে আয়োজিত সেই লিগে ক্যামেরন্স এবং ইস্টবেঙ্গল দু’দলেরই সংগ্রহ ছিল ২৪ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট ।

অবস্থান ছিল এরকম –

ইস্টবেঙ্গল – ২৪-১৬-৫-৩-৩২-১১-৩৭

ক্যামেরন্স – ২৪-১৫-৭-২-৩৭-৬-৩৭



314 views0 comments